বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ (দ্বিতীয় পর্ব)

রাজ্য

অন্নদামঙ্গলকাব্য ও ভারতচন্দ্র রায়গুনাকার : 
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের হাওড়া জেলায় ১৭১২ সালে জন্মগ্রহণ করেন ভারতচন্দ্র রায়গুনাকার।তিনি বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের এবং মঙ্গলকাব্যের শেষ কবি। অনেকের মতে তিনিই ছিলেন শ্রেষ্ঠ কবি। তিনি কৃষ্ণনগর রাজ্যের রাজসভাকবি ছিলেন, মহারাজ তাকে উপাধি দিয়েছিলেন রায়গুনাকার। তাকেই প্রথম নাগরিক কবি হিসেবে ধরা হয়।
অন্নদামঙ্গল কাব্য তিন খন্ডে রচিত। এছাড়া মানসিংহ – ভবানন্দ উপাখ্যান এর রচয়িতা হিসেবেও তিনি পরিচিত।
উক্তি : আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে ( অন্নদামঙ্গল কাব্য, ঈশ্বর পাটনী এই প্রার্থনা করেছিলেন)
এছাড়া আছে :
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পতন।
নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়
কড়িতে বাঘের দুধ মেলে
জননী জন্মভূমি স্বর্গের গরিয়সী

# ধর্মমমঙ্গল কাব্য :
আদি কবি ময়ূর ভট্ট। শ্রেষ্ঠ কবি ঘনরাম চক্রবর্তী। তার কাব্যের নাম হাকন্দ পুরান। সন তারিখ যুক্ত ধর্মমঙ্গল কাব্যের কবি রুপরাম চক্রবর্তী

জীবনীসাহিত্য : 
মধ্যযুগের বাংলাসাহিত্যে চৈতন্যদেবের প্রভাব অপরিসীম। তার নামে বাংলা সাহিত্যের একটি যুগের নামকরণ করা হয়েছে। ১৮ ই ফেব্রুয়ারি ১৪৮৬ সালে নবদ্বীপে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাল্য নাম ছিলো বলাই। প্রকৃত নাম বিস্বম্বর মিত্র। দেহের বর্ণের জন্য তার নাম রাখা হয় গৌরাঙ্গ। তার ধর্ম ছিলো মানবপ্রেমধর্ম। তিনি ষোল শতকে রুক্সিনির ভূমিকায় অভিনয় করতেন ( রাধাকৃষ্ণ পালা)। মধ্যযুগে তার জীবনী অবলম্বনে রচিত কাব্যগ্রন্থগুলো বাংলা ভাষায় জীবনী সাহিত্য রচনার প্রথম প্রয়াস। তার জীবনীগ্রন্থ কে বলা হয় কড়চা। যার মানে দিনলিপি বা ডায়েরী। তার জীবনী প্রথম রচিত হয় সংস্কৃত ভাষায়। বাংলাভাষায় জীবনীকাব্য হলো বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবতজীবনীকাব্যের শ্রেষ্ঠ কবি কৃষ্ণদাস কবিরাজ, তিনি সিলেটের অধিবাসী ছিলেন। অদ্ভুতাচার্য নামে পরিচিত ছিলেন নিত্যানন্দ আচার্য।
বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগের জীবনীসাহিত্য অনেক বেশি গুরুত্ব বহন করে।

4+

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *