বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা- পার্ট:১

সরকার

বাংলাদেশের সরকার ব্যবস্থা :
পার্ট-০১:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সকল কাজ সম্পাদনের জন্য মোট তিনটি বিভাগ রয়েছে। এগুলো হলো: আইন, শাসন, বিচার বিভাগ।

আইন বিভাগ: বাংলাদেশের আইনসভা এককক্ষ বিশিষ্ট এবং এর নাম জাতীয় সংসদ।জাতীয় সংসদের মোট আসন সংখ্যা ৩০০ টি যার মধ্যে ১নং আসন হলো পঞ্চগড় এবং ৩০০ নং আসন বান্দরবন জেলায় অবস্থিত। এই ৩০০ আসনের মধ্যে ঢাকা জেলাতে রয়েছে ২০ টির বেশি আসন এবং সেখানে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের আওতায় আছে ১৫ টি। ( ঢাকা দক্ষিন-৮ এবং ঢাকা উত্তর-৭)। এখানে উল্লেখ্য যে – সব চেয়ে কম আসন রয়েছে তিনটি জেলা তে – রাঙামাটি,খাগড়াছড়ি, বান্দরবন(আসন রয়েছে একটি করে)।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিলো ৭ এপ্রিল ১৯৭৩ সালে এবং তা শেষ হয়েছিলো ৬ নভেম্বর ১৯৭৫ সালে। প্রথম সংসদের মেয়াদ ছিলো ২ বছর সাত মাস। এখানে মনে রাখতে হবে যে সব চেয়ে কম স্থায়ীত্ব হয়েছিলো ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এটি শুরু হয়েছিলো ১৯ মার্চ ১৯৯৬ এবং মার্চ মাসের ৩০ তারিখে শেষ হয়। যা মেয়াদ ছিলো মাত্র ১২ দিন।

নির্বাহী বা শাসন বিভাগ : 
মূলত রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধান,মন্ত্রীপরিষদ, সচিবালয় কর্মকর্তাদের শাসন বিভাগ গঠিত হয়ে থাকে। বাংলাদেশে সংসদীয় ( Parliamentary) পদ্ধতির সরকার বিদ্যমান। এই সরকার ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি মর্যাদার অধিকারী রাষ্ট্রপতি এবং সরকার প্রধান হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী।

Some important question:
— প্রথম রাষ্ট্রপতির নাম ছিল শেখ মুজিবর রহামান।খন্দকার মোশতাক আহমেদ ক্ষমতায় ছিল তিন মাস। লে.জে. জিয়াউর রহমান ছিলেন ২১/৪/১৯৭৭-৩০/৫/১৯৮১ সাল পর্যন্ত। বাংলদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ *।একথা মনে রাখা অবশ্যই উচিত যে, বর্তমানে বাংলাদেশের সরকারের প্রধান নির্বাহী হলেন সরকার প্রধান বা প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম মেয়াদে প্রেসিডেন্ট ছিলেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। শেখ মুজিব ছিলেন প্রথম এবং জিয়াউর রহমান ছিলেন অষ্টম রাষ্ট্রপতি। উল্ল্যখ্য যে মুক্তিযুদ্ধকাল সময়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ এবং দেশ স্বাধীন হলে তিনি শেখ মজুবর রহমানের নির্দেশে অর্থমন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব নেন।

বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থা: 
– এককেন্দ্রিক শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান এবং বাংলাদেশের প্রশাসনিক স্তরগুলো হলো — কেন্দ্রীয় এবং স্থানীয় প্রশাসন। ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশে স্থানীয় শাসন অঅর্ডিন্যান্স জারি হয়।

কেন্দ্রীয় প্রশাসন: বাংলাদেশের প্রশাসন ব্যবস্থার কেন্দ্রে অবস্থিত হলো সেক্রেটারিয়েট বা সচিবালয়। সরকারী যাবতীয় সিদ্ধান্ত সচিবালয়ে নেওয়া হয়। সাধারনত বিভিন্ন মন্ত্রনালয় ও তার বিভাগসমূহের অফিসগুলোকে একত্রে সচিবালয় বলা হয়ে থাকে।
একটি মন্ত্রনালয়ের প্রধান হলেন মন্ত্রী আর সচিব হলেন প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা। প্রতিটি মন্ত্রনালয়ের সাথে সংযুক্ত রয়েছে অধিদপ্তর এবং এর প্রধান হলেন মহাপরিচালক।
( মন্ত্রী—সচিব-–অতিরিক্ত সচিব—যুগ্মসচিব—উপ সচিব—সিনিয়র সহকারী সচিব—সহকারী সচিব)

বিভাগীয় প্রশাসন: কেন্দ্রের পরেই আছে বিভাগীয় শাসন ব্যবস্থা। সমগ্র বাংলাদেশকে আটটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। বিভাগীয় প্রশাসনের শীর্ষ স্থানে আছে বিভাগীয় কমিশনার। তিনি একজন যুগ্ম সচিবের সমমর্যাদা সম্পন্ন।

জেলা প্রশাসন: তিন নং কাঠামোর স্তর। মোট ৬৪ টি জেলা আছে। স্বাধীনতার আগে ১৯ টি জেলা ছিলো যাদের কে বৃহত্তর জেলা বলা হয়। প্রস্তাবিত ৬৫ নং জেলা হলো ভৈরব। জেলা প্রশাসকের মর্যাদা একজন উপ-সচিবের সমান এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার একজন সিনিয়র সচিবের সমমর্যাদা সম্পন্ন।

3+

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *