পরিক্ষা গারে সোডিয়াম কার্বনেট (Na2CO3) এর প্রমাণ দ্রবণ এর সাহায্যে হাইড্রোক্লোরিক(HCl) এর ঘনমাত্রা নির্ণয়।

ঘনবাত্রা
  • পরিক্ষার নাম:পরীক্ষাগারে সোডিয়াম কার্বনেট(Na2CO3) এর প্রমাণ দ্রবণ এর সাহায্যে হাইড্রোক্লোরিক(HCl) এর ঘনমাত্রা নির্ণয়।

মূলনীতি : সোডিয়াম কার্বনেট একটি দ্বি অম্লীয় মৃদু ক্ষার পক্ষান্তরে হাইড্রোক্লোরিক এসিড একটি ক্ষারীয় তীব্র এসিড কাজেই এদের টাইট্রেশন কালে মিথাইল অরেঞ্জ নির্দেশক ব্যবহার করা হয় এবং পূর্ণ প্রশমনের ক্ষেত্রে এদের বিক্রিয়া দ্বারা নিম্নরূপ
Na2CO3 + 2HCl = 2NaCl + H2O + CO2
উপরের বিক্রিয়া হতে এটা স্পষ্ট যে, ১ মোল Na2CO3 কে পূর্ণ প্রশমিত করতে ২ মোল HCl দরকার।
সুতরাং মোলার ঘনমাত্রা অনুসারে,
V2M2=2V1M1
=>M2=2V1M1/V2………..(1)
অতএব, নির্দিষ্ট আয়তনের সোডিয়াম কার্বনেট এর প্রমাণ দ্রবণ কে পূর্ণ প্রশমিত করতে কত আয়তন হাইড্রোক্লোরিক লাগবে তা টাইট্রেশন এর মাধ্যমে নিরূপণ করে সমীকরণ (1) হতে হাইড্রোক্লোরিক এসিড দ্রবণের সঠিক ঘনমাত্রা নির্ণয় করা হয়।
প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ঃ
• একটি 50 ml ব্যুরেট
• একটি ক্লাম্পসহ ব্যুরেট স্ট্যান্ড
• একটি 250 ml কনক্যাল ফ্লাস্ক
• একটি 10 ml পিপেট
• একটি ফানেল
• একটি ড্রপার
• একটি ওয়াশ বোতল।
প্রয়োজনীয় রাসায়নিক দ্রব্যাদি ঃ
• সরবরাহকৃত HCl এসিড
• অনার্দ্র Na2CO3
• পাতিত পানি
• মিথাইল অরেঞ্জ
কার্যপ্রনালীঃ প্রমাণ সোডিয়াম কার্বনেট দ্রবণের সাহায্যে সরবরাহকৃত হাইড্রোক্লোরিক প্রশমিত করন । একটি 250 ml কনিক্যাল ফ্লাস্ক কে পাতিত পানি দিয়ে ভালোভাবে পরিষ্কার করে নিয়েছিলাম। তারপর একটি 10ml পিপেটকে প্রথমে পানি ও পরে সরবরাহকৃত সোডিয়াম কার্বনেট দ্রবন দ্বারা ধৌত করেছিলাম। এরপর উক্ত পানি পিপেটের সাহায্যে 10ml সোডিয়াম কার্বনেট দ্রবন কনিক্যাল ফ্লাস্ক নিয়ে দ্রবণ দ্বারা ধৌত করেছিলাম। এরপর উক্ত পানি পিপেটে সাহায্যে 10 ml সোডিয়াম কার্বনেট দ্রবন কনিক্যাল ফ্লাস্ক নিয়ে তাতে 2-3 ফোটা মিথাইল অরেঞ্জ নির্দেশক যোগ করি। দ্রবণে বর্ণ হালকা হলুদ হয়েছিল। কনিক্যাল ফ্লাস্ক এর নিচে একটি সাদা কাগজ রেখেছিলাম। একটি ব্যুরেট কে প্রথমে পাতিত পানি দিয়ে পরে সরবরাহকৃত হাইড্রোক্লোরিক এর দ্রবণ দ্বারা ধৌত করেছিলাম। এইবার বুরেটে উক্ত এসিড নিয়ে স্টপ কর্কটি হঠাৎ সম্পূর্ণ খুলে দেই যেন জেট নল বায়ু মুক্ত হয়ে দ্রবণে পূর্ণ হয়। এবার স্টপ কর্ক টি বন্ধ করে ব্যুরেটে এমনভাবে এসিড নেই যাতে দ্রবণের নিচের তল ব্যুরেটের শূন্য দাগ এর সাথে মিলে যায়। এটাই ব্যুরেটের প্রথম পাঠ। এখন ব্যুরেট থেকে হাইড্রোক্লোরিক এর দ্রবণ ফোটায় ফোটায় কনিক্যাল ফ্লাস্ক এর মধ্যে যোগ করতে থাকি ও কনিক্যাল ফ্লাস্ক ধীরে ধীরে নাড়তে থাকি। এমন এক সময় আসবে যখন এক ফোটা হাইড্রোক্লোরিক যোগ হওয়া মাত্রই ফ্লাক্সের দ্রবণটি হালকা কমলা বা গোলাপি হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বুরেটের স্টপ কর্ক বন্ধ করে ব্যুরেট এর শেষ পাঠ নেই প্রথম পাঠের থেকে শেষের পাঠের বিয়োগফল হতে। সোডিয়াম কার্বনেট দ্রবন কে এভাবে আরও দুটি টাইট্রেশন করেছিলাম তিনটি রিডিং এর দাগ নিয়েছিলাম।
উপাত্তঃওয়াচ গ্লাসের ভর= 12.037
হিসাবঃ
Na2CO3 এর ঘনমাত্রা,M1= গৃহীত দ্রবের ওজন/প্রমান দ্রবন প্রস্তুতিতে প্রয়োজনীয় দ্রবের ওজন *M/10
=2.650/2.650* M/10
=0.1
Na2CO3 এর আয়তন,V1= 10 ml
HCl এর আয়তন,V2=19.766ml
HCl এর ঘনমাত্রা,
M2=2*V1*M1/V2
=2*10*0.1/19.766
=0.101

2+

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *